বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের (২০১৫-১৬) মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। নতুন নির্বাচনের (২০১৬-১৭) তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ১৮ অক্টোবর। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু ৫ ডিসেম্বর ও জমা ৮ ডিসেম্বর। এখনো দুই মাস বাকি থাকলেও তফসিল ঘোষণার পর থেকে এফডিসির পরিচালক সমিতির কার্যালয় ঘিরে নির্মাতাদের যাতায়াত বেড়েছে।
দুই বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী সংসদের ১৭ সদস্যের এই কমিটির নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, তা এখানো জানা যায়নি। তবে সভাপতি ও মহাসচিব পদের জন্য শোনা গেছে একাধিক নাম। তালিকায় সভাপতি পদে আছেন আমজাদ হোসেন, মুশফিকুর রহমান গুলজার, সোহানুর রহমান সোহান ও আবুল খায়ের বুলবুল এবং মহাসচিব পদে জাকির হোসেন রাজু, সাফি উদ্দীন সাফি ও রায়হান মুজিব।
এদিকে চলতি কমিটির কার্যক্রমের ওপর খুব একটা সন্তুষ্ট নন চলচ্চিত্র পরিচালকেরা। নেতা নির্বাচনে সেই প্রভাবটি পড়তে পারে এবার। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো কাজই করতে পারেনি চলতি কমিটি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিচালক বলেন, ‘বিগত দুই বছরের মিটিংয়ে প্রায় ৪৮টি রেজল্যুশন হয়েছে। ছোটখাটো কিছু কাজ ছাড়া পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বড় কোনো কাজই হয়নি।’ ওই পরিচালক আরও বলেন, বছরের বিশেষ বিশেষ দিবস পালন, মিলাদ মাহফিল, বনভোজন পালনেই সক্রিয় ছিল এই কমিটি।
এ অভিযোগের জবাবে পরিচালক সমিতির বর্তমান মহাসচিব মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘বিগত দুই বছরে আমরা সমিতির সদস্যদের উন্নয়নে কাজ করেছি। চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছি। এখন প্রযোজক সমিতি নেই, শিল্পী সমিতির কাজেও ধীরগতি। বর্তমানে চলচ্চিত্রের যে অবস্থা, তাতে একমাত্র পরিচালক সমিতির কারণেই তা টিকে আছে।’ চলতি কমিটিকে সফল দাবি করেছেন কমিটির সহসভাপতি সোহানুর রহমান সোহান। তিনি বলেন, ‘এই কমিটি যথেষ্ট তৎপর ছিল। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা শতভাগ কার্যকর করেছে কমিটি।’
কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে চলতি কমিটির একজন সদস্য অভিযোগ করে বলেন, রেজল্যুশন হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটিতেই এই কমিটি ব্যর্থ। এর মধ্যে যৌথ প্রযোজনা, ছবি বিনিময় ইস্যুসহ পরিচালকদের আবাসনব্যবস্থার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, মূলধারার বাইরের পরিচালকদের নিয়ে কর্মশালা, সেমিনারের আয়োজন, টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ একাধিক রেজল্যুশন করা প্রস্তাবের একটিও কার্যকর হয়নি। দুই বছরে পরিচালকদের নিয়ে তিন দিনের একটি কর্মশালা হয়েছে বটে।’
ওপরের বিষয়গুলো মনে করিয়ে দিলে সোহান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। কমিটির মেয়াদ তো এখনো শেষ হয়নি।’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে মিটিং করেছি আমরা। কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।’
তবে ব্যর্থতার দায়ভার স্বীকার করেছেন চলতি কমিটির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য আবুল খায়ের বুলবুল। তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করছি, কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে সব কাজ হয়তো করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য এককভাবে কেউ দায়ী নন। ব্যর্থতা পুরো কমিটির।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*